Voice of Insaf: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) একটি আবাসিক হলে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবার শেখ রাসেল হল (প্রস্তাবিত শহিদ আবরার ফাহাদ হল) থেকে দুইজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর দুটি ল্যাপটপ চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নেপালের নাগরিক আকরাম আনসারী ও নাইয়ার আশফাক। তারা হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো পাঞ্জাবির ওপর জ্যাকেট পরা এবং মুখে মাস্কধারী এক ব্যক্তি হলে প্রবেশ করেন। পরে তিনি তৃতীয় তলার ৩০৭ নম্বর কক্ষে ঢুকে দুটি ল্যাপটপ নিয়ে দ্রুত হল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল একই হল থেকে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (সিপিএস) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. হেনামুল ইসলাম হিমুর একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে। তবে ওই ঘটনার এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, একই ব্যক্তি একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নিরাপত্তা কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে জননেতা আব্দুল মান্নান হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হল ও ভবন থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, সাইকেল এবং পানির ট্যাপ চুরির একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, চুরির ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জরুরি নিরীক্ষণ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সিসিটিভির সংখ্যা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজ্জাক বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি মুখে মাস্ক পরিহিত থাকায় তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
-মাভাবিপ্রবি






