Voice of Insaf: এক শিশুগৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি রহমান এবং বাসার আরও দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গেল রোববার গভীর রাতে উত্তরা এলাকার বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার(২ রা ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজু আহমেদ শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আদালতে জানান, অভিযোগগুলো গুরুতর এবং তদন্তের স্বার্থে আসামিদের হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিবরণ
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশুকে গত বছরের জুন মাসে গৃহকর্মী হিসেবে ওই বাসায় কাজ দিতে পাঠান তার বাবা গোলাম মোস্তফা, যিনি একটি হোটেলে কর্মরত। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের ভবিষ্যৎ খরচ বহনের আশ্বাসে তাকে কাজে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস পর থেকে মেয়েকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ফোন করে জানানো হয়, শিশুটি অসুস্থ—তাকে নিয়ে যেতে হবে। সেদিন সন্ধ্যায় মেয়েকে বুঝে নেওয়ার সময় বাবা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান এবং শিশুটি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না।
পরবর্তীতে তাকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটি বাবাকে জানায়, বাসায় তাকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করা হতো। মারধরের পাশাপাশি গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দেওয়ার অভিযোগও সে করেছে।
আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সাফিকুর রহমান সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ত থাকেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার স্ত্রী অসুস্থ ও বয়স্ক—তিনিও অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, দরিদ্র পরিবারের একটি শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয়েছে—এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। শিশুটির শারীরিক অবস্থা নির্যাতনের মাত্রা স্পষ্ট করে বলে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের অবস্থান
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ বলেন, “শিশুটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এই মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।






