Voice of Insaf: শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের দাবিতে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যানচেস্টারের ওবিএ মিলেনিয়াম কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা, মানবাধিকার কর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশ নয়; বরং এটি একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক ফোরাম। যেখানে আবেগনির্ভর স্লোগানের পরিবর্তে দিকনির্দেশনা, দায়বদ্ধতা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচির শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মজলুমদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চ ম্যানচেস্টারের কনভেনার মুহসিন আহমেদ বলেন, ওসমান হাদির হত্যার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিচার আজও অধরা। ন্যায়বিচার কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নয়; এটি মানুষের মর্যাদা ও আইনের শাসনের মৌলিক প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান স্পষ্ট-ন্যায়বিচার কোনো নির্বাচনী অঙ্কের অংশ হতে পারে না এবং কোনো শক্তির প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের প্রশ্নও ওঠে না।
ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের কনভেনার মুজাহিদ রিয়াজ হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই হত্যার দায় কেবল ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, নীরবতা এবং কাঠামোগত অবহেলা। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই ন্যায়বিচার অস্বীকার করা। তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক ও সংগঠিত চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বয়ান গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের মিডিয়া মুখপাত্র তৌহিদুল করিম মুজাহিদ। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে গণমাধ্যমের নীরবতা ও বয়ান বিকৃতি একটি গুরুতর সমস্যা। দায়িত্বশীল ডকুমেন্টেশন এবং প্রবাসী গণমাধ্যমের নৈতিক ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি আবেগনির্ভর অনুমান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাটকীয় ভাষা পরিহারের আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলেও তার রেখে যাওয়া সংগ্রাম থেমে থাকেনি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে বলে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ওসমান হাদির হত্যার ন্যায়বিচার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।






