তুহিন বাহাদুর, মাভাবিপ্রবি : ঋতুচক্রের পরিবর্তনে উত্তুরে হাওয়ার পরশ লেগেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে। কুয়াশার পাতলা চাদরে ঢাকা সবুজ প্রান্তর আর শিশিরবিন্দুতে ঝলমল করা ঘাসের ডগা—সব মিলিয়ে এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে সন্তোষের এই বিদ্যাপীঠ। শীতের এই স্নিগ্ধতা শুধু প্রকৃতিতেই নয়, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে ও এক নতুন ছন্দের সৃষ্টি করেছে।
প্রকৃতির রূপ ও সকালের দৃশ্যপট ভোরের আলো ফুটতেই দেখা যায় এক বৈচিত্র্যময় চিত্র। ঘন কুয়াশার ভেতরে কেউ শরীরচর্চায় মগ্ন, কেউবা সতেজ বাতাসে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে বেরিয়ে পড়েছেন প্রাতঃভ্রমণে। ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে সারি সারি গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির যখন ভোরের সূর্যের প্রথম রশ্মিতে হিরের মতো জ্বলে ওঠে, তখন এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবনের সামনের চত্বর—সবখানেই প্রকৃতির এই রূপের ছটা।আড্ডা ও যান্ত্রিকতার মেলবন্ধন শীতের সকালে ক্যাম্পাসের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠে চায়ের দোকানগুলো। প্রধান ফটক কিংবা হল সংলগ্ন টং দোকানগুলোতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ আর গরম পিঠার সুবাসে জমে ওঠে তারুণ্যের আড্ডা।
জনপ্রিয় আড্ডাস্থল:
হাতির কবর, বিজয় অঙ্গন, জুয়েল চত্বর কিংবা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে প্রিয়জনদের নিয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি উপভোগ করার দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি: পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়াল সাহার মতে, কম্বলের মায়া কাটিয়ে কুয়াশাভেজা সকালে ক্লাসে যাওয়ার যে আলসেমি, তার মাঝেও এক অদ্ভুত আনন্দ আছে। অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জেবা সামিহা মুগ্ধ ক্যাম্পাসের ফুল আর সূর্যমুখীর হাসিতে। তার মতে, শীতের সকালগুলো যেন একেকটি নতুন গল্পের জন্ম দেয়।
হলের চিরচেনা রাত ও কর্মব্যস্ত দিনবিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো যেন এক অতন্দ্র প্রহরী। এখানে রাত আর দিনের পার্থক্য ঘুচে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত হলের করিডোরে চলে বন্ধুদের আড্ডা, কেউবা ফোনে প্রিয়জনের সাথে আলাপে ব্যস্ত। আবার এরই মাঝে দেখা যায় ক্যারিয়ার সচেতন সেই মুখগুলোকে, যারা লাইব্রেরি কিংবা রিডিং রুমে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনে রাত পার করে দেয়। ভোর হতে না হতেই শুরু হয় ক্লাস-পরীক্ষার চিরচেনা দৌড়ঝাঁপ।
বসন্তের আগে নতুনের সাজ শীতের এই সময়টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরনে শোভা পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত বর্ণিল হুডি ও শীতকালীন পোশাক। বিকেলে খেলার মাঠে ফুটবল-ক্রিকেটের উন্মাদনা আর সন্ধ্যায় গিটারের সুরে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অতিথি পাখির কিচিরমিচির আর সর্ষে ক্ষেতের হলদে আভা ক্যাম্পাসের প্রান্তরে যে প্রশান্তি নিয়ে আসে, তা শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে আজীবন অমলিন হয়ে থাকবে।প্রকৃতি আর তারুণ্যের এই মেলবন্ধনে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাস এখন এক অনন্য উৎসবের জনপদ।


