শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন শুভ জম্মদিন আজ ইসলামী যুব আন্দোলন (চট্টগ্রাম) বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড় ইউনিয়নে দাওয়াতি সভা ও কমিটি গঠন সম্পন্ন মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় টাঙ্গাইল নাগরপুরের একই পরিবারের ৫ জন সহ ৭ জন নিহত যুব আন্দোলন ফটিকছড়ি থানা সম্মেলন সম্পন্ন জাতিকে ধর্মহীন করার লক্ষ্যে প্রণীত শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না টাঙ্গাইলে ছাত্র জমিয়তের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে ছাত্রলীগ’ ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করতে গিয়ে মারপিট, গুরুতর আহত ৩ জন ঠাকুরগাঁওয়ে ইভটিজিং করায় ৬ মাসের কারাদণ্ড লক্ষ্মীপুরে জায়গা জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ।
আলোচিত নোয়াখালীর ঘটনার মূল রহস্য

আলোচিত নোয়াখালীর ঘটনার মূল রহস্য

মূল ঘটনা:

ওই গৃহবধূর বিয়ে হয় বছর তিনেক আগে। স্বামী তাকে রেখে অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে স্বামীর কোনো যোগাযোগ ছিল না। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী ওই গৃহবধূর সাথে দেখা করতে আসেন। স্বামীকে গৃহবধূর ঘরে ঢুকতে দেখে স্থানীয় মাদক চোরাকারবারি বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার তার বাহিনী নিয়ে রাত ১০টার দিকে ওই ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে নোংরা অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করে তার ভিডিওধারণ করে। ভিডিওচিত্রটি এতোদিন দেলোয়ার বাহিনীর কাছেই ছিল, তারা এই ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেবার ভয় দেখিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীটির পরিবারের কাছে টাকা দাবী করে নিয়মিত হুমকি দিত। ভয়ে পুরো পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। টাকা না দেওয়ায় আজ বিকালে নির্যাতনের বীভৎস ভিডিওটি অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়৷

ঘটনাটি ৩২ দিন আগে ঘটেছে। নির্যাতিতা গৃহবধুকে এলাকা ছাড়া করা হয়েছিল পরেরদিনই। এই দীর্ঘ সময়ে এলাকাবাসী বিচারের দাবীতে কোন প্রতিবাদ কিংবা কিছুই করেনি। পুলিশ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনরূপ তৎপরতা ছিল না।

আজকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইতিমধ্যেই পুলিশ আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেছে এবং নির্যাতিতা গৃহবধূকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, বেগমগঞ্জের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের ৫টি ইউনিট মাঠে কাজ শুরু করেছে।

ভিডিওটি সুস্থ-স্বাভাবিক কেউ দেখলে অসুস্থ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। নির্যাতনকারী নরপিশাচগুলো অচিন্তনীয় বর্বরতায় এই মানুষটাকে অপদস্থ করেছে, অবমাননা করেছে। পুরোপুরি বিবস্ত্র করে একজন তার যৌনাঙ্গে হাত ঢুকিয়েছে। এরপর লাঠি ঢুকিয়েছে। স্রেফ নারী হিসেবে না, চরম পৈশাচিকতায় এই হাইওয়ানের দল নির্যাতনের পুরোটা সময় গালাগালি এবং মানুষটাকে নিয়ে নোংরা রসিকতা আর চরম ভয়াবহ কুৎসিত অবমাননা চালিয়ে গেছে।

তাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এই নির্যাতনের পুরোটা ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করা। তারা বারবার বলছিল, ফেসবুকে যাবে এইটা, ভাইরাল হবে। কারণ তারা দেখেছে খুব সহজেই এই দেশের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ভয়ংকর এবং পৈশাচিক সব কন্টেন্ট ভাইরাল করা যায়, নারীদের প্রতি অবমাননাকর ইতরামি শেয়ার হয় শত-হাজারে। অনলাইনে নানা পোস্টে, পেইজে, ইনবক্সে নানা জায়গায় নানা টপিকে নারীদের প্রতিমুহুর্তেই অশ্লীল গালাগালি, ধর্ষণের হুমকি, আর চরম নোংরা যৌন হয়রানি আর ইতরামি করেও পার পেয়ে যাচ্ছে সবাই, কেউই বিচারের আওতায় আসছে না, প্রায় কোন পটেনশিয়াল রেপিস্টেরই সাইবার বুলিং-এর জন্য বিচার হচ্ছে না।

নির্যাতনকারীদের চেহারার ছবি নেবার জন্য ভিডিওটা দেখতে বাধ্য হয়েছিলাম। এখনো মাথায় একটা ভোঁতা যন্ত্রণা হচ্ছে। সহজভাবে চিন্তা করতে পারছি না, কিছু ভাবতে পারছি না। মাথায় রক্ত উঠে গেছে, এদের এমন সব শাস্তি দেবার চিন্তা আসছে, এর আগে কখনো ভাবিনি। বারবার আমার মায়ের মুখটা মনে পড়ছে। আমার বোনের মুখটা মনে পড়ছে। এই গৃহবধূর জায়গায় আজ তারাও থাকতে পারতো। এই গৃহবধূর জায়গায় আজ আপনার মা কিংবা বোন কিংবা স্ত্রী কিংবা মেয়ে থাকতে পারতো। কিভাবে সহ্য করতেন? আজ ছিল না, কাল এই গৃহবধূর জায়গায় আপনার আপনজন থাকতেও পারে। কিভাবে সহ্য করবেন? ভাবতে পারছেন?

আমার পুরো চিন্তাশক্তি জুড়ে স্রেফ ঐ গৃহবধূর আর্তচীৎকার চলছে। তার হাহাকারটুকু মাথার ভেতর বাজছে। ভদ্রমহিলা বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরে নিজেকে বিবস্ত্র হওয়া থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, ওরা টিটকারীর হাসি হাসতে হাসতে সেই চাদরটাও ছিনিয়ে নিয়ে গেল। মানুষটার অসহায়ত্বটুকু একবার কল্পনা করার চেষ্টা করেন। আপনার মা-বোন প্রিয়জনের কথা বাদ দেন, নারী-পুরুষ পার্থক্যটাও ভুলে যান কিছুক্ষণের জন্য। নিজেরে মানুষ হিসেবে ভাবেন শুধু। স্রেফ একজন মানুষ হিসেবেই আপনার নিজেকেই ঐ মানুষটার জায়গায় একবার ভাবেন। আপনাকে কেউ এভাবে মারতে মারতে নগ্ন করে আপনার শরীর থেকে লজ্জা নিবারণের শেষ আভরণটাও খুলে নিচ্ছে আর নোংরা রসিকতা করছে। সাইকোপ্যাথের ভয়াবহতায় আপনার উপর পাশবিক নির্যাতনের একপর্যায়ে আপনার যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। এই পুরো ঘটনাটা আরেকজন প্রবল আনন্দ নিয়ে ভিডিও করছে। কেমন লাগবে আপনার? কি মনে হবে নিজেকে? কি করবেন এরপর? বেঁচে থাকতে পারবেন আদৌ?

ভিডিওর পুরো সময়টায় মানুষটা লজ্জায়, ক্ষোভে, অপমানে, যন্ত্রণায়, কষ্টে হাহাকারে গোঙাচ্ছিলেন, কাঁদছিলেন আর বলছিলেনঃ

বাবা গো আমাকে ছেড়ে দে।

“আব্বা গো তোর আল্লাহ’র দোহাই ছাড়ি দে!

” এরে আব্বা গো, তোগো আল্লাহ’র দোহাইরে।

বাবা গো, ছাড়ি দে।

(ফেসবুক থেকে)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




যোগাযোগব্যবস্থা : +8801797887885 , +966577834342 Email :voiceofinsaf.office@gmail.com
Desing & Developed BY NewsRush