Voice of Insaf: অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটানের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি দেশটিতে শিক্ষার্থী ভিসা জালিয়াতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১১ জানুয়ারি ‘নিউজ ডটকম ডটএইউ’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে এ চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া ‘লেভেল-টু’ থেকে উন্নীত করে ‘লেভেল-থ্রি’ করা হয়েছে। এর ফলে, ভিসা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কড়াকড়ি হবে, যা জালিয়াতির ঘটনা কমানোর পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত সুবিধা নিশ্চিত করবে।
অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সাবেক উপসচিব আবুল রিজভি জানিয়েছেন-এখন থেকে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভিসা আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষাগত ইতিহাসের বিস্তারিত প্রমাণপত্র জমা দেওয়া প্রয়োজন হবে।
এছাড়া, সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের এক তৃতীয়াংশই ছিল বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আগত।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, এই পরিবর্তন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক কাঠামোর অধীনে সেরা মানের শিক্ষা প্রদানের নিশ্চয়তা দেবে এবং তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সহায়তা করবে।এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল সম্প্রতি ভারত সফর শেষে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যার ফলস্বরূপ ভিসা প্রক্রিয়ায় এই নতুন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ‘সিম্পলিফাইড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক’ (এসএসভিএফ) অনুযায়ী, দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভিত্তি করে একটি ‘এভিডেন্স লেভেল’ নির্ধারণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জালিয়াতি ও অন্যান্য কারণে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের হার, শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে থাকার হার এবং পরবর্তী সময়ে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করার হার।এদিকে, ‘ইএল থ্রি’ রেটিংয়ে পৌঁছানোর জন্য ভিসা আবেদনকারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তাদের আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষাগত ইতিহাসের বিস্তারিত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।এই নতুন সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক পরিপক্বতা এবং নিরাপত্তা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

