ভয়েস অফ ইনসাফ :স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। সেই পথেই নিজের প্রতিভা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় আলো ছড়াচ্ছে টাঙ্গাইলের ১৫ বছর বয়সী তরুণ সামির তালুকদার। অল্প বয়সেই প্রযুক্তি, প্রোগ্রামিং এবং নাগরিক সেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সে তৈরি করছে এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের গল্প।
টাঙ্গাইল শহরের টাঙ্গাইল টাওয়ার এলাকায় বসবাসকারী সামির তালুকদার সেলিম তালুকদার ও ডলি আক্তারের সন্তান। বর্তমানে সে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তি চর্চায় সক্রিয় এই তরুণ বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং ক্লাবের দায়িত্ব পালন করছে।
অল্প বয়সেই উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে সামির। সে টিসিএন (TCN) নামের একটি সফটওয়্যার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা বাড়াতে সে প্রতিষ্ঠা করেছে “আইসিটি স্বাধীন কুইজ প্রতিযোগিতা”, যা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত একটি অনলাইন কুইজ প্ল্যাটফর্ম।
শুধু প্রযুক্তি চর্চাই নয়, নাগরিক সেবা সহজ করার লক্ষ্যেও কাজ করছে এই তরুণ। সে চালু করেছে “নাগরিক” নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যার মূল লক্ষ্য “প্রযুক্তি হাতে, সেবা সাথেই”। প্রতিষ্ঠানটি দেশের সকল নাগরিকের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায়ও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে সামির তালুকদার। সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াডে জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সে। এছাড়া জুনিয়র ক্যাটাগরিতে জেলাভিত্তিক সেরা প্রোগ্রামার হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বিভিন্ন প্রোগ্রামিং অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে একাধিকবার বিজয়ী হয়েছে এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও আগ্রহ রয়েছে সামিরের। তার লেখা প্রথম বই “মিস্টার প্রোগ্রামার” প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এ।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সামির বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল রোবো প্রোগ্রামিং অলিম্পিয়াডে “ধুমকেতু” টিমের একজন সদস্য হিসেবে যুক্ত আছে। এছাড়া সে দূর থেকে কাজ করেছে ফিনল্যান্ডের সফটওয়্যার কোম্পানি “ফিনমেইল”- এর সঙ্গে।
নিজের মেধা ও উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছে সামির তালুকদার। তার বিশ্বাস, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তি দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সত্যিকারের স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা সম্ভব।






