মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল):
তীব্র শীত ও রাতের ঘন কুয়াশায় থমকে গেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের জনজীবন। ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। মোটা শীতের কাপড় গায়ে দিয়ে এবং রাতের সামান্য তাপমাত্রায় খাটের ওপর লেপ-তোষকের মধ্যে ঘুমিয়ে টেকা যেখানে কষ্টকর, ঠিক সেই সময় খোলা আকাশের নিচে বাঁশঝাড়ের পাশে পলিথিনের ঘরে, এক ইঞ্চি পুরু খড় বিছিয়ে ও একটি পাতলা কম্বল গায়ে দিয়ে রাত পার করেন নগদা শিমলা ইউনিয়নের চর-চতিলা গ্রামের ফারাজি পাড়ার মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. নাসির (৪০)।
১ শতাংশ জমি ছাড়া তার আর কোনো সম্পদ বা ঘর নেই। অভাবের কারণে স্ত্রী-সন্তান দূরে চলে গেছে। কৃষি শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সামান্য আয়ে দিনাতিপাত করেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, তীব্র শীত, অতি বৃষ্টি বা প্রচণ্ড গরম যাই হোক না কেন, নাসির খোলা আকাশের নিচেই পলিথিনের আশ্রয়ে অতিকষ্টে রাত যাপন করেন।
শনিবার রাতে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বাঁশঝাড়ের নিচে খোলা ছাউনিতে অবাধে ঘন কুয়াশা অবাধে ঢুকছে।
প্রতিবেশী খলিলুর রহমান বলেন, নাসিরের এভাবে ঘুমানোর ঘটনা খুব কষ্টের ও বিরল। কোনো সম্পদ না থাকায় তার বাবার মৃত্যুর পর আমরা তার বোনের থেকে এক শতাংশ জমি নিয়ে দিয়েছি। ওর জন্য একটা ঘর খুব জরুরি।
ফারাজি পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হামিদ বলেন, ও যেভাবে আড়া জঙ্গলে খোলা পরিবেশে ঘুমায়, শেয়াল-কুকুরও এভাবে ঘুমায় না। এক ইঞ্চি খড়ের ওপর এই শীতে ঘুমালে নিচ থেকে খুব ঠান্ডা উঠে। সামর্থ্য না থাকায় ঘর তুলতে পারে না।
চর-চতিলা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, একজন মানুষ কখনো এভাবে খোলা পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে না। ওর বিষয়টি স্বচক্ষে দেখে অমানবিক লেগেছে। প্রবাসী মাসুম মাহবুবুরের পক্ষ থেকে একটি ডাবল লেয়ার কম্বল দিয়ে যাচ্ছি। বিত্তবান বা প্রশাসনের উচিত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা।