Voice of Insaf: দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে চলমান আন্দোলন দিন দিন আরও বেগবান হচ্ছে। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যা গ ও অপসারণের দাবিতে ক্রিকেটারদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাধারণত যেকোনো আন্দোলনে যেমনটি হয়ে থাকে, শুরুতে সীমিত পরিসরে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে।
এই আন্দোলনের সূচনায় কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এককভাবে সোচ্চার ছিলেন এবং নেতৃত্ব দেন। পরবর্তী সময়ে তার সহযোগী ও সমবয়সী ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশ এতে যুক্ত হন।বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোয়াব আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিন ফরম্যাটে জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান এবং শামসুর রহমান শুভ। তারা সবাই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সন্ধ্যার পর পাওয়া খবরে জানা যায়, দেশের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমও কোয়াবের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলা মুশফিকুর রহিম বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে আলাপে পুরো ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে।
এদিকে বিসিবি চরম সংকটে পড়েছে। একদিকে সরাসরি নাজমুল ইসলামকে পদচ্যুত করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে অপসারণ ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্পও হাতে নেই। এই জটিল অবস্থায় নাজমুল ইসলামের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিসিবির এক পরিচালক আক্ষেপ করে বলেন, নাজমুল সাহেবকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফোন বন্ধ। আর তিনি যদি দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাইতেন, তাহলে তা আগেই করতেন। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটা জটিল ও ঘোলাটে হতো না।
এ পর্যন্ত নাজমুল ইসলাম কোনোভাবে ‘সরি’ বলেননি। বরং নিজের বক্তব্যের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে সেটিকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্রিকেটারদের আচরণ এবং তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসংলগ্ন মন্তব্য করে তিনি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেন। অনেকের মতে, বুধবারের ওই বক্তব্যই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

