Voice of Insaf: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার আতুকুড়া গ্রামে সরিষা ক্ষেতে মধু চাষের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতজুড়ে হলুদ ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সারিবদ্ধ মৌবাক্স। এসব বাক্সে মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে উৎপাদন করছে খাঁটি ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সরিষার মধু।
সরজমিনে দেখা যায়, সুন্দরবন থেকে আগত অভিজ্ঞ মৌচাষি শেখ জোবায়ের এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তাদের মধু উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার কেজি বা (১টন)। এরই মধ্যে প্রায় ৬০০ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে ইতিবাচক অগ্রগতি নির্দেশ করে। তিনি আরও বলেন, বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করায় আধুনিক পদ্ধতিতে মৌচাষ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে।
স্থানীয় কৃষক সৈয়দ মিয়ার তত্ত্বাবধানে সরিষা ক্ষেতে এই মধু খামার গড়ে উঠেছে। তিনি জানান, মৌচাষের ফলে শুধু মধু উৎপাদনই নয়, মৌমাছির পরাগায়নের কারণে সরিষার ফলনও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কৃষকেরা দ্বিমুখী লাভবান হচ্ছেন।
উৎপাদিত মধু স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে এবং ভবিষ্যতে নাসিরনগরে মধু চাষ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে। এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
-তকিউল ইসলাম
নাসিরনগর , ব্রাহ্মণবাড়িয়া

