Voice of Insaf: চাগাস (Chagas Disease) রোগ যা সাধারণত বাংলাদেশে দেখা যায় না। এই রোগটি প্রধানত দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকোতে প্রচলিত । এটি কিসিং বাগ নামে পরিচিত একটি পোকা দ্বারা ছড়ায় এবং এর জীবাণু ট্রাইপ্যানোসোমা ক্রুজি (Trypanosoma cruzi) এর মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে।
এই রোগ প্রথম ১৯০৯ সালে ব্রাজিলের চিকিৎসক কার্লোস চাগাস দ্বারা আবিষ্কৃত হয়। তিনি কিসিং বাগের জীবাণু জীবনচক্র বিশদভাবে বর্ণনা করেন, এবং তার নামানুসারে রোগটির নাম রাখা হয়। কিসিং বাগ সাধারণত জঙ্গল এলাকায় পাওয়া যায়।

উপসর্গ ও লক্ষণ
তীব্র পর্যায় যেসব লক্ষণ দেখা যায়
• জ্বর।
• মাথাব্যথা।
• বমি বমি ভাব।
• র্যাশ (বাংলায় আমরা বলি ফুসকুড়ি)।
• রোমানা লক্ষণ: যেকোনো এক চোখ ফুলিয়ে উঠা।
• চাগোমা: সংক্রমণ স্থানে ফোঁলা।
দীর্ঘস্থায়ী পর্যায় যেসব লক্ষণ হতে পারে
• খাবার গিলতে অসুবিধা হবে।
• অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন।
• হার্ট ফেইলর।
• হঠাৎ মৃত্যু।
• যকৃত বড় হয়ে যাওয়া।
রোগ নির্ণয়
যারা দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকোতে বসবাস করে অথবা ঐ এলাকায় যাতায়াত ইতিহাস থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসক কিছুটা হলে এই রোগের আন্দাজ করতে পারবে। তবে কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা যায়।
• মাইক্রোস্কোপি পরীক্ষা: এই পরীক্ষা মাধ্যমে ট্রাইপ্যানোসোমা অণুজীব দেখতে পাওয়া যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা নাও যেতে পারে।
• পিসিআর (পলিমারেজ চেইন রিয়েকশন): এই পরীক্ষার মাধ্যমে এই অণুজীবের ডিএনএ পাওয়া যায়।
• সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা: এনজাইম-লিঙ্কড ইমিউনোসরবেন্ট অ্যাস এই পরীক্ষা মাধ্যমে অণুজীবের অ্যান্টিবডি উপস্থিতি বুঝা যায়।
প্রাথমিকভাবে এসব পরীক্ষা করা হয়। তবে যেহেতু আমরা লক্ষণ জানতে পারি হৃদপিণ্ড সমস্যা হয়, তাই এর সাথে ইসিজি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
চিকিৎসা
প্রাথমিক চাগাস রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ জড়িত। দুটি সর্বাধিক ব্যবহৃত ওষুধ হল বেনজনিডাজল এবং নিফুর্টিমক্স। এই ওষুধগুলি যখন তীব্র পর্যায়ে পরিচালিত হয় তখন আরও কার্যকর হয় তবে দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়ে রোগের অগ্রগতি ধীর করতেও সাহায্য করতে পারে। হৃদপিণ্ড ও পেটের সমস্যা হতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা হৃদপিণ্ডজনিত ঔষধ যেমন: ফুরোসেমাইড, কারভেডিলল, লিসিনোপ্রিল ইত্যাদি ঔষধ দিতে পারি। যদি রোগ খুব গুরুতর হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে সার্জারি করে নিতে পারি।
প্রতিরোধ
চাগাস রোগ প্রতিরোধে চাগাস রোগের ভেক্টরকে টার্গেট করা এবং পরজীবীর সংস্পর্শ কম করা জড়িত। মূল প্রতিরোধের কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে:
• বাগ উপদ্রব প্রতিরোধ করার জন্য আবাসন অবস্থার উন্নতি।
• ট্রায়াটোমাইন বাগ দূর করতে কীটনাশক ব্যবহার করা
রক্তদান এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য স্ক্রীনিং প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা।
• ঝুঁকি এবং সংক্রমণ পদ্ধতি সম্পর্কে সম্প্রদায়কে শিক্ষিত করা।
বিশ্ব চাগাস রোগ দিবস, ১৪ এপ্রিল পালিত হয়, এর লক্ষ্য এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে উন্নীত করা। এই দিনটি জনসাধারণকে শিক্ষিত করার, বর্ধিত গবেষণা তহবিলের জন্য উকিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও সম্প্রদায়কে সহায়তা করার একটি সুযোগ প্রদান করে। তাই চাগাস রোগ সম্পর্কে সচেতন হই এবং নিজের ও পরিবারের সুস্থতা কামনা করি।
নাম: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন
ব্যাচ: ইউএমসি ০৭
সেশন: ২০২০-২১
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ

