Voice of Insaf: বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পর্যটন এখন কেবল বিলাসবহুল যাপনের বিষয় নয়—এটি এক দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার অন্যতম শক্তিশালী শিল্প। বিশেষত উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে পর্যটন এমন একটি ‘উর্ধাঙ্গামুখী প্রবাহ’ তৈরি করে, যা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক আয়ের নতুন দরজা খুলে দেয়।
প্রথমত, পর্যটন খাতের সরাসরি আর্থিক প্রভাব অত্যন্ত দৃশ্যমান। হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, গাইডিং সেবা, বিনোদনকেন্দ্র—এই পুরো চেইনটি একটার সঙ্গে আরেকটা গভীরভাবে যুক্ত। ফলে কোনো পর্যটন মৌসুম ভালো গেলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সিলেট বা সুন্দরবনের মতো এলাকায় মৌসুমভিত্তিক কাজ করা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিটি নতুন পর্যটক মানে স্থানীয় অর্থনীতিতে তাজা টাকার প্রবাহ।
দ্বিতীয়ত, পর্যটন যেসব এলাকায় বিকশিত হয়, সেখানে অবকাঠামো উন্নয়নের গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায়। উন্নত সড়ক, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ–ইন্টারনেট সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা—এসব বিনিয়োগ শুধু পর্যটকের জন্য নয়, স্থানীয় মানুষের জীবনমানও পরিবর্তন করে। পর্যটনকে ঘিরে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়, জমির মূল্য বাড়ে, কর্মসংস্থান বিস্তৃত হয়।
তৃতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও পর্যটন এখন বড় ভূমিকা রাখে। অনেক দেশই শুধু পর্যটনের ওপর ভর করে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশেও একই সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, দ্বীপ, পাহাড়, উপকূল, বন-সবই এখানে রয়েছে। প্রয়োজন শুধু টেকসই নীতি, পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
তবে ‘উর্ধাঙ্গামুখী প্রবাহ’কে স্থায়ী করতে হলে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জরুরি। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব পর্যটনে গুরুত্ব দেওয়া এবং পর্যটন এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নজরদারি—এসব না হলে এই খাতের প্রবাহ অচিরেই বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
পর্যটন এমন একটি শিল্প যা অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করতে পারে; বিশেষত সংকট বা বৈশ্বিক মন্দার সময় এটি হতে পারে আর্থিক উত্তরণের একটি কার্যকর পথ। তাই সময় এসেছে পর্যটনকে শুধু বিনোদন নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা।
-ছিদ্দিকুর রহমান
কক্সবাজার